
ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান
জিয়াউর রহমান যখন বাংলাদেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন দেশের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রাণহীন, জরাজীর্ণ ও শতধাবিভক্ত ছিল। এর কারণ ১৯৭৫ সালে দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বাকশাল গঠন করে বামপনার দলসহ সকল রাজনৈতিক দল বেআইনি ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রীয় মালিকানায় চারটি মাত্র দৈনিক পত্রিকা রেখে আর সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা হয়। এতে করে দেশে সীমাহীন নৈরাজ্য, অস্থিরতা ও রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়। একই বছরের ১৫ই আগস্টে পট পরিবর্তনের পর তাঁরই ঘনিষ্ঠ সহকর্মী আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা খন্দকার মোস্তাক আহমেদ-এর নেত…ত্বে আওয়ামী লীগেরই একটি অংশ ক্ষমতা দখল করে এবং সামরিক আইন জারি করে। কি খন্দকার মোস্তাকের ৮৩ দিনের শাসনকাল ঘাত-প্রতিঘাতে পরিপূর্ণ ছিল। সংকট, সন্দেহ, পারস্পরিক দোষারোপ, কু ও পাল্টা কু এর অগ্নিঝড়া ৭৫ এর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সিপাহি-জনতা অবরুদ্ধ জিয়াকে মুক্ত করে কীভাবে দেশ পরিচালনা গুরু দায়িত্ব প্রদান করেছেন সে সম্পর্কে ইতিহাস সচেতন দেশবাসী অবগত আছেন।
বিদ্যমান পরিস্থিতি তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ গ্রহণে ও নতুন রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনে উদ্বুদ্ধ করে। জিয়াউর রহমানের মহিস্তস্কের নতুন দলের সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র কেমন হবে, এর দার্শনিক ভিত্তি কি হবে, এর একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা পাওয়া গেছে। গ্রহণযোগ্যতার বিচারে শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান কয়েকটি হল: ১) মুক্তিযুদ্ধে জনগণের অংশগ্রহণের মূল উদ্দীপক স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ভিত্তিতে সরকার গঠনে নাগরিকদের অংশগ্রহণ (ভোটাধিকার) নিশ্চিত করার মাধ্যমে “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার” বাস্তবায়ন করা; (২) জাতির আত্মপরিচয় অন্বেষণ ও তদানুসারে শাসন ব্যবসায় জাত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশবাসীর ই”ছার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা; (৩) জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি কূটনৈতিক দক্ষতার সাথে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে দুর্ভিক্ষ কবলিত বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে এনে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা; এবং (৪) দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষা করা।
উল্লিখিত লক্ষ্যগুলো অর্জনই ছিল জিয়ার রাষ্ট্রভাবনার মূল প্রেরণা। অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের প্রথম কর্মপনা হিসেবে নিজেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত করেন এবং ৩ জুন, ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করেন। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এভাবেই তিনি নির্বাচনী রাজনীতি পুনর্বহাল করে দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। লক্ষ্য অর্জনের দ্বিতীয় কর্মপনা হিসেবে জিয়াউর রহমান জাতির আত্মপরিচয় অন্বেষণে নিজেকে নিয়োজিত করেন। বাহাত্তরের সংবিধানে আমাদের পরিচয় “বাঙালি” হিসেবে ধার্য করা হলেও রাষ্ট্র ক্ষমতা অধিষ্ঠিত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান এই ধারণায় পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করেন। নাগরিক হিসেবে সকলের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে জাতি হিসেবে আমাদের পরিচয় কি তা স্পষ্ট হতে হবে। তিনি বলেন, “যদি আমরা জাতীয় পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে “বাঙালি” পরিভাষাটি ব্যবহার করি তাহলে বাংলাদেশের ভূখন্ডে বসাবাসরত অবাঙালি বাংলাদেশী নাগরিকগণ (যেমন-আদিবাসীগণ) জাতীয় পরিচয়ের বলয় থেকে ছিটকে পড়বে। এটি আমাদের জাতিসত্বার একটি খন্ডিত পরিচয় তুলে ধরে। জিয়াউর রহমান তাই বাংলাদেশের বাঙালি ও অবাঙালিসহ সকল নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্যে জাতীয় পরিচয়ের মাধ্যম হিসেবে “বাঙালির” “লে “বাংলাদেশী” পরিভাষা ব্যবহার করার প্রস্তাব করেন। আমাদের জাতীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে এধরনের একটি তাত্ত্বিক বিচ্যুতি দূর করার লক্ষ্যে কালক্ষেপণ না করে তিনি ফর্মান জারি করে একে আইনি কাঠামোর মধ্যে স্তি করেন” (‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’, জিয়াউর রহমান
(www.bnpbd.org) । বাঙালি জাতীয়তাবাদী ভাবনার তুলনায় জিয়ার রাষ্ট্র দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রায়োগিক। এভাবেই জিয়াউর রহমান দলকে “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী একটি সুদৃঢ় দার্শনিক ভিত্তির ওপর দাড় করেছিলেন এবং একটি জাতিরাষ্ট্র তৈরি
করতে সক্ষম হয়েছিলেন। “আওয়ামী লীগের বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনীতির নিষ্পত্তি হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে… একটি জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তার কার্যকারিতা সম্পন্ন করেছিল (মহিউদ্দিন আহমদ, বিএনপি: সময়-অসময়, ২০১৭,
পৃ-১৩৪-১৩৫)। আওয়ামী লীগ এরপর পুরোনো মনস্তত্ত্বের ঘেরাটোপ থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারেনি, এর ধারাবাহিকতা চলছে কিছু দিন আগেও।
লক্ষ্য অর্জনের ত…তীয় কর্মপনা হিসেবে জিয়াউর রহমান নানা ধরণের উন্নয়নমূলক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করে জনগণের হৃদয়ে স্নান করে নিয়েছেন। সংক্ষেপে বললে, খাল খনন, গ্রাম সরকার, ভিডিপি ও গণশিক্ষার মত বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। সেচ ও ক… ষি যন্ত্রপাতি ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তার পরিকল্পনায় ছিল দেশে যৌথ খামার ও ক…ষি সমবায় চালু করা। শিল্প ও বাণিজ্য খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করে উদার ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির এক মিশ্র ধারা চালু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি পোশাক শিল্প, রপ্তানিমুখিকরণ এবং এই শিল্প বিকাশের জন্য সর্ব প্রথম স্পেশাল বন্ডেড ওয়ারহাউজ স্কিম চালু করা, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট পদ্ধতির উদ্ভাবনসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে নানা ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করেছে বিএনপি। বিশেষ করে পোশাক শিল্প ও রেমিটেন্স, যার ওপর আজ দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে, তার শুরু হয়েছিলো জিয়াউর রহমানের আমলেই। ক্ষমতায় গিয়ে চটকদার কিছু কর্মসূচি বা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করে জনসাধারণকে গণতন্ত্রের দাবি থেকে সরিয়ে রাখাই হল সাময়িক শাসকদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য, কিন্ত জিয়াউর রহমান সেই তুলনায় ছিল এক অনন্যসাধারণ ব্যতিক্রমধর্মী উদাহরণ।
জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্ক…তিক সম্প্রীতি ও সুরক্ষার রক্ষাকবচ হিসাবে সর্বজনবিদিত। রাজনীতি ও অর্থনীতির পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও সাংস্ক…তিক অগ্রগতিকেও গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
“তাঁর সময়ে একুশে ও স্বাধীনতা পদক প্রদান করা শুরু হয়। জাতীয় লোকসংগীত উৎসব, জাতীয় নাট্যোৎসব, জাতীয় বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী, বেতার-টিভির সম্প্রসারণ, টিভির রঙিন সম্প্রচার, জাতীয় শিশু-কিশোর পুরস্কার প্রবর্তন, জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার শুরু করা, চলচিত্রের জন্য অনুদান তহবিল গঠন, ফিল্ম ইনস্টিটিউট ও আর্কাইভচালু করা, আন্তর্জাতিক চলচিত্র উৎসবের আয়োজন করা হয়। মেয়েদের স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয় (মল্লিক, ৩০ মে, ২০২১, প্রথম আলো)”।
বিগত ফ্যাসিষ্ট শাসক দলের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বিপরীতে জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল অধিক কার্যকর ও জাতীয় সত্ত্বা এবং স্বার্থ সহায়ক। লক্ষ্য অর্জনের চতুর্থ কর্মপনা হিসেবে তিনি যে কয়েকটি বিষয়কে পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছেন সেগুলো হ”েছ: ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনীতি, জনগণের ধর্ম, আঞ্চলিক অবস্থান, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আমাদের মধ্যে পরাশক্তির হস্তক্ষেপের পরিধি। এই বিষয়গুলোর বিবেচনায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের জন্য প্রয়োজন শক্তি অর্জন। প্রশ্ন হ”েছ শক্তি কী এবং কোথায়? এর উত্তরে জিয়াউর রহমান বলেন “শক্তির উৎস জনগণ। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যেই রয়েছে শক্তি… গণসমর্থন না থাকলে যত দক্ষ ও শক্তিশালী ফরেন পলিসি করেন না কেন তাতে কোনোই কাজ হবে না। এক ধাক্কায় সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যাবে (মাহফুজ উল্লাহ, পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে জিয়ার অভিমত, প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী, প…ষ্ঠা ৫০৩)।
জিয়াউর রহমানের নেত…ত্বে ১৯৭৮ সালে জাপানকে হারিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ প্রথমবার নির্বাচিত হবার গৌরব অর্জন করে। তাঁর হাত ধরেই অধিকাংশ ইসলামি রাষ্ট্র থেকে স্বীক…তি অর্জন, ওআইসি গঠিত আল-কুদস কমিটির সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) ১৯৮৫ সালের ৮ই ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের চিন্তা অনুসরণ করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭৭ সালে ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেসাই ও বাংলাদেশের তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকালে দু’দেশের বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। উক্ত দুই নেতা সেই বছর একটি পাঁচ বছরের পানি বণ্টন চুক্তি সাক্ষর করেন।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন এবং জনগণ কর্ত…ক নির্বাচিত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির অর্জনও ছিল প্রণিধানযোগ্য। উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে বাংলাদেশ একটি বাফার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পেছনে দায়ী বিনা ভোটে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখা গণবিছিন্ন পালিয়ে যাওয়া শাসক দল।
সদ্য স্বাধীন অথচ দুর্ভিক্ষ, দুর্নীতি দুঃশাসন ও চরম রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিপতিত ডুবন্ত বাংলাদেশকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলের বক্তব্যটি প্রতিধানযোগ্য। তার ভাষায় ‘১৯৮১ সালের পরিবর্তে জিয়াউর রহমানকে ১৯৭৫ সালে হত্যা করা হলে বাংলাদেশের কী হতো তা কল্পনা করা কঠিন। আফগানিস্তান বা লাইবেরিয়ার মডেলে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারতো। জিয়া বাংলাদেশকে সেই পরিণতি থেকে রক্ষা করেছেন।’
যে কথা বলে শেষ করতে চাই, জাতীয়তাবাদী দর্শনের সঠিক উপলব্ধি ও এর বাস্তবায়নের লক্ষ্য অর্জনে জিয়া’র রাষ্ট্রভাবনা – বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, জনসম্প…ক্ত অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন (বিশেষ করে ১৯ দফা কর্মসূচির বাস্তবায়ন), জাতীয় সঝত্ত্বা ও স্বার্থ রক্ষা করে পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন এবং বহু দলীয় গণতন্ত্রের চর্চার কোন বিকল্প নেই।
জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্যই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে, অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত রোড ম্যাপ অনুযায়ী একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন বিকল্প নেই। তাই জনপ্রিয় ও দায়িত্বশীল একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টাই হওয়া উচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গিকার।