
বেগম খালেদা জিয়া: দ্যা ওয়ারিয়র অ্যান্ড প্রোটেক্টর অব বাংলাদেশ। স্নেহবলে তিনি মাতা, বাহুবলে তিনি রাজা। শৌর্যবীর্যে পুরুষ হলেও কমনীয়তায় নারী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আরেক নাম।
বেগম জিয়ার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিধবা স্ত্রী হিসেবে। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সহানুভূতির জায়গা থেকে উঠে আসেন সম্মান, শ্রদ্ধা, নেতৃত্বের আসনে। ধীরে ধীরে তিনি “বেগম জিয়া” থেকে “খালেদা জিয়া” হয়ে ওঠেন—আপোষহীন নেত্রী। (ব্যক্তিগতভাবে, আমি তাকে “বেগম জিয়া” বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, যদিও!)
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার মতো অনন্য (unparalleled) চরিত্র নেই, শুধু বাংলাদেশ কেন, বিশ্বের নারী নেতৃত্বেও তিনি অন্যতম ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। আমরা সবাই তাকে “আপোষহীন নেত্রী” বলেই জানি, কারণ তিনি যে কথা বলেন, তা থেকে একচুলও নড়েন না। কিন্তু কখন?
যখন বিষয়টা জনগণের কল্যাণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য—তখন তিনি একচুলও পেছান না।
কিন্তু দেশের স্বার্থে? তখন ঠিকই compromise করেছেন। কারণ তিনি জানেন, জনগণের স্বার্থের ওপরে কিছু নেই। যেমন, বিএনপি যখন parliamentary form of government-এ বিশ্বাস করত না, তখন তিনি বুঝলেন এটা দেশের জন্য ভালো হবে, অন্য দলগুলোও চাইলো এটা হোক—তখন তিনি compromise করলেন এবং তার হাত ধরেই বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলো।
আবার, যখন সবাই চাইল তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তখন তিনিই সেটি মেনে নিলেন। ৯৬-এর নির্বাচনের পর যখন সবাই চাইলো একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, তিনি কোনো দ্বিধা না করে সংসদ ভেঙে দিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিলেন।
কিন্তু যখনই দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু এসেছে? যখনই বিষয়টা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের প্রশ্নে এসেছে—তিনি কঠিন থেকেছেন, এক বিন্দুও টলেননি! বিন্দুমাত্র আপোষ করেননি!
তার সবচেয়ে বড় সাম্প্রতিক উদাহরণ? নিজের জীবনের চেয়েও দেশের কথা ভেবে শেষ জীবনে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকার পরও তিনি কারাগারে গেলেন, নির্বাসিত জীবন বেছে নিলেন।
তার জেল থেকে হাসপাতাল, হাসপাতাল থেকে আবার জেল—এই মুহূর্তগুলোর ভিডিওগুলো একটু দেইখেন। এক সেকেন্ডের জন্যও আপনার মনে হবেনা তিনি মাথা নত করেছেন। দেখবেন তার মায়াবি চেহারায় মুচকি হাসি!
অনেকে বলেন তার রাজনৈতিক জ্ঞানের অভাব ছিল! কিন্তু আপনি তার প্রথম জাতিসংঘের ভাষণ শুনুন—সেখানে তিনি ফারাক্কা বাঁধের কারণে ভারতের কারণে বাংলাদেশের ক্ষতির কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন। তিনি কি জানতেন না এর রাজনৈতিক মূল্য কতটা হবে? জানতেন। তবু দেশের স্বার্থে তিনি মাথা উঁচু করে কথা বলেছেন। বিএনপিকে কিংস পার্টি থেকে জনমানুষের দল বানিয়েছেন বেগম জিয়া।
বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতার আরেক নাম বেগম খালেদা জিয়া।
তার সেই আদালতে দেওয়া বক্তব্যটা বারবার মনে পড়ে—
“বাংলাদেশের সঙ্গে আমার ভাগ্য জুড়ে গেছে। যখন বাংলাদেশ ভালো থাকে, আমি ভালো থাকি। আর যখন বাংলাদেশ খারাপ থাকে, আমি খারাপ থাকি।”
গত ১৬ বছর আর বিশেষ করে গত ৬ মাসে আমরা এর চরম প্রমাণ পেয়েছি।
জানিনা বিএনপি করা কয়জন এখনো বেগম জিয়ার আবার রাজনীতিতে ফিরার অপেক্ষা করে, তবে আমার এই অবুঝ মন এখনো সপ্ন দেখে বেগম জিয়া আবার আসবেন, আবার শপথ নিবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রির, ইনশাআল্লাহ! আমাদের এই প্রজন্মকে নিজের হাতে ধরে আপোষহীনতার সঙ্গে রাজনীতি করা শিখাবেন।
যেইদিন দেখবেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম জিয়ার relevancy কমে গেছে, বুঝে নিয়েন দেশ পরাধীনতার দিকে আগাচ্ছে।
মাঝে মাঝে মনে হয়—
DO WE ACTUALLY DESERVE Begum Khaleda Zia?